আপেল খুজার কাজ

 গল্পের নাম: সময়ের ওপারে একটি চিঠি

🍎

style="background-color: #04ff00;">


১. অচেনা চিঠি


রাত তখন প্রায় বারোটা। চারপাশ নিস্তব্ধ। বিদ্যুৎ নেই, মোমবাতির আলোয় পুরোনো একটা কাঠের টেবিলে বসে রায়হান ডায়েরির পাতা উল্টাচ্ছিল। হঠাৎ দরজার নিচ দিয়ে একটা খাম ঠেলে ঢুকে পড়ল।


🍎

/>


রায়হান চমকে উঠল।



এই গভীর রাতে কে চিঠি পাঠায়?


খামটা তুলে নিতেই তার বুকের ভেতর কেমন জানি একটা কাঁপুনি উঠল। খামের ওপর লেখা—


“রায়হান, তুমি আমাকে চেনো না। কিন্তু আমি তোমাকে চিনি।


এই চিঠি পড়ার পর তুমি আর আগের মতো থাকবে না।”

হাত কাঁপতে লাগল তার। ধীরে ধীরে খাম খুলল।



🍎

b>

২. চিঠির ভেতরের সত্য



চিঠির কাগজটা ছিল অদ্ভুত—নতুন নয়, আবার পুরোনোও নয়। কালি যেন সময়ের ভারে গাঢ় হয়ে গেছে।

চিঠিতে লেখা—



“রায়হান,

আজ থেকে ঠিক ১৫ বছর আগে তুমি আমাকে হারিয়েছিলে।

সেদিন তুমি কাঁদোনি, কারণ তুমি বুঝতে পারোনি আমি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।<

🍎
🍎
/b>



কিন্তু আমি কেঁদেছিলাম। খুব কেঁদেছিলাম।

তুমি আমাকে ভুলে গেলে, কিন্তু আমি প্রতিদিন তোমাকে মনে রেখেছি।”

রায়হানের মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল।



🍎

p>


১৫ বছর আগে?

তার মনে পড়ল—একটা দিন। স্কুলের শেষ দিন। বৃষ্টি। ভাঙা ছাতা। আর একটি মেয়ে।

নাম ছিল—নীরা।


🍎

>

৩. নীরার স্মৃতি

নীরা ছিল ক্লাসের সবচেয়ে চুপচাপ মেয়ে। কিন্তু তার চোখ দুটো কথা বলত। রায়হান তখন বুঝত না সেই ভাষা।

স্কুল ছুটির দিন নীরা বলেছিল, —“তুমি কি আমাকে কখনো ভুলবে?”

রায়হান হেসে বলেছিল, —“ধুর! এসব কী বলো!”

সেই দিনই নীরা শহর ছেড়ে চলে গিয়েছিল। আর কোনোদিন ফিরে আসেনি।<

🍎
/p>




৪. চিঠির দ্বিতীয় অংশ

রায়হান আবার চিঠিতে চোখ রাখল—

“তুমি এখন যে মানুষটা হয়েছো, সেটা হওয়ার পেছনে আমার অবদান আছে।

তুমি জানো না, কিন্তু তোমার প্রতিটি কষ্টের সময় আমি দূর থেকে তোমার জন্য দোয়া করেছি।

আজ আমি আর বেশি সময়ের অতিথি নই।<

🍎
/b>

তাই এই চিঠি।”

রায়হানের বুকটা হঠাৎ ভারী হয়ে গেল।

আরও লেখা—

“আগামীকাল সকাল ৯টায় পুরোনো নদীর ধারে আসবে।

🍎

যদি আসো—সব সত্য জানতে পারবে।

না এলে—আমাকে চিরদিনের মতো হারাবে।”



🍎

৫. পুরোনো নদীর ধারে

পরদিন সকাল।

রায়হান সারারাত ঘুমাতে পারেনি। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সে নদীর ধারে পৌঁছাল। সেই নদী—যেখানে তারা ছোটবেলায় কাগজের নৌকা ভাসাত।

নদীর পাড়ে একটা হুইলচেয়ারে বসে ছিল এক মেয়ে।

চুল ছোট। চোখ দুটো পরিচিত।

নীরা।

কিন্তু আগের মতো নয়।

🍎



৬. নীরার নীরব সত্য

নীরা মুচকি হেসে বলল, —“তুমি এসেছো। জানতাম আসবে।”

রায়হানের গলা শুকিয়ে গেল। —“তুমি… তুমি এমন কেন?”

নীরা আকাশের দিকে তাকাল। —“ক্যান্সার। তিন বছর ধরে।” 🍎

p>

নীরার কণ্ঠে কোনো অভিযোগ নেই।

সে বলল, —“আমি তোমাকে ডাকলাম কারণ আমি চলে যাওয়ার আগে একটা উত্তর চাই।”

রায়হান চোখ নামিয়ে ফেলল। —“আমি তখন বোকা ছিলাম।”

নীরা ধীরে বলল, —“আমি জানি। তাই তো এত বছর অপেক্ষা করেছি।”

🍎




৭. সময়ের কাছে ক্ষমা

নীরা তার ব্যাগ থেকে আরেকটা চিঠি বের করল।

—“এটা তুমি খুলবে… আমি চলে যাওয়ার পর।”

রায়হান কাঁদছিল। প্রকাশ্যে। লুকিয়ে নয়।

নীরা বলল, —“ভালো থেকো। নিজের স্বপ্ন ছেড়ে দিও না।

আর কাউকে অবহেলা কোরো না—যে নিঃশব্দে তোমাকে ভালোবাসে।”

<
🍎
🍎
🍎
p>



৮. শেষ চিঠি

এক সপ্তাহ পর।

নীরা আর নেই।

রায়হান শেষ চিঠি খুলল—

“ভালোবাসা সব সময় পাওয়ার জন্য হয় না।

কিছু ভালোবাসা মানুষকে মানুষ বানিয়ে যায়।

তুমি আজ যে মানুষটা, সেটাই আমার জয়।

— নীরা”



🍎

b>



৯. উপসংহার

আজও রায়হান মাঝে মাঝে সেই নদীর ধারে যায়।

কাগজের নৌকা ভাসায়।

আর মনে মনে বলে—

“কিছু মানুষ দেরিতে বোঝা যায়।

কিন্তু তাদের শেখানো শিক্ষা আজীবন থেকে যায়।”

🍎

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন